River Flood Alert | সংকোশ নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে সতর্ক প্রশাসন

সংকোশ নদী ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ, নদীপাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর উদ্যোগ

উত্তরবঙ্গ: পাহাড়ি ঢলের জেরে সংকোশ নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সতর্ক আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলা প্রশাসন। নদী সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম এলাকার সংকোশ নদীর তীরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানানো হচ্ছে, আপাতত কেউ যেন নদীতে মাছ ধরতে না যান। নদীর কাছাকাছি অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ-২ ব্লকেও নদী তীরবর্তী এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। উদ্ধার ও সতর্কতামূলক কাজে তৎপর রয়েছেন প্রশাসনিক কর্মীরা।

প্রশাসনিক সূত্রে উদ্বেগের অন্যতম কারণ ভুটানের পাহাড়ি অঞ্চলের সিনটাফু হ্রদের জলপ্রবাহ। ওই অঞ্চলের জলধারা শেষ পর্যন্ত সংকোশ নদীর অববাহিকার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত জল নেমে এলে নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ও বারোবিশা এলাকার নদী সংলগ্ন একাধিক অঞ্চলকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সংকোশ ফরেস্ট ভিলেজ, চা বাগান এলাকা, চেংমারি, পাকরিগুড়ি এবং ভল্কা বাজারের মতো এলাকায় চলছে প্রশাসনিক সতর্কতা ও মাইকিং।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বনদপ্তর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নদীর জল লোকালয়ে প্রবেশ করলে বন্যপ্রাণীদের গতিবিধি নিয়েও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

প্রশাসনের তরফে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের উদ্দেশে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে। কোনওভাবেই নদীর ধারে গিয়ে জলস্তর দেখতে বা ছবি তুলতে যাওয়া যাবে না। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় নথি ও শুকনো খাবার সঙ্গে নিয়ে দ্রুত উঁচু জায়গা অথবা নির্ধারিত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক পরিস্থিতির উপর নজর রেখে উদ্ধার ও সুরক্ষার প্রস্তুতি জোরদার করেছে প্রশাসন। এখন একটাই লক্ষ্য, আগাম সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে নদীপাড়ের মানুষের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা।