Kolkata Municipal Corporation’s – হোটেল-অতিথিশালায় কড়া নজর কলকাতা পুরসভার, অনুমতির কারণ জানানো হবে ওয়েবসাইটে

কলকাতা: শহরের হোটেল, অতিথিশালা ও রেস্তরাঁগুলির উপর নজরদারি আরও জোরদার করতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। কোনও হোটেল বা অতিথিশালাকে খোলার অনুমতি কেন দেওয়া হয়েছে, আবার কোনও প্রতিষ্ঠানকে কেন বন্ধ করা হয়েছে—তার বিস্তারিত তথ্য পুরসভার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে।

শনিবার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্মিতা পাণ্ডে বলেন, পুরসভার পরিদর্শনের কাজ নিয়মমাফিক চলছে। দমকল দফতর হোটেল বা অতিথিশালাগুলিকে যে সমস্ত অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে বলেছে, সেগুলি যথাযথ ভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা আমাদের পরিদর্শনের কাজ চালিয়ে যাব। দমকল দফতর গেস্টহাউস বা হোটেলগুলিকে যে সব শর্ত পূরণ করতে বলেছে, সেগুলি ঠিকঠাক ভাবে পূরণ করা হচ্ছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।’’

পুর প্রশাসকের আরও বক্তব্য, যে সমস্ত হোটেল ও অতিথিশালাকে ফের খোলার অনুমতি দেওয়া হবে, তাদের তালিকা পুরসভার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, কোনও প্রতিষ্ঠানকে কেন খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেই কারণও জানানো হবে। একই ভাবে, যেসব হোটেল বা অতিথিশালা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলি বন্ধ করার কারণও ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হবে।

পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের একটি সূত্রের দাবি, সম্প্রতি মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পুরসভার অনুমোদন ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই শহরের হোটেল, অতিথিশালা ও রেস্তরাঁগুলির উপর নজরদারি আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯ অগস্ট ২০২৬ ভোরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় ২টা ৭ মিনিটে পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। দ্রুত গোটা হোটেল ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বহু আবাসিক সেই সময় ঘুমিয়ে থাকায় তাঁদের বের করে আনতে বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারী দলকে।

অগ্নিকাণ্ডে মোট ন’জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে সাত জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও পরে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুরসভার অনুমোদন নিয়েও একাধিক প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনার পর কলকাতার হোটেল, অতিথিশালা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুরসভার নজরদারি নতুন করে খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কাজে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেই পুরসভার তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে।