Durga Puja 2026 | পূর্ব বর্ধমানের বিবেকানন্দ সেবক সংঘের এবারেরথিম – ‘চইনা হতে উমা’

শারদোৎসবের আবহে দেবী আরাধনার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার বার্তা তুলে ধরতে বিশেষ ভাবনা নিয়ে হাজির পূর্ব বর্ধমানের বিবেকানন্দ সেবক সংঘ। এবারের দুর্গাপুজোর থিম ‘চইনা হোতে উমা’। নারী ও শিশুদের উপর অত্যাচার বন্ধ করা এবং সমাজে তাঁদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করার আবেদনই এই ভাবনার মূল সুর।

বর্তমান সমাজে নারী ও শিশুদের উপর নির্যাতন, হেনস্থা এবং নানা ধরনের বৈষম্যের ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু উৎসবের আনন্দ নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও মানুষের সামনে তুলে ধরতে চায় পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁদের ভাবনায়, নারীর অধিকার রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

দেবীর আরাধনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে নারীর সম্মান

দুর্গাপুজোয় দেবী দুর্গাকে শক্তি ও অসুরবিনাশের প্রতীক হিসেবে পুজো করা হয়। কিন্তু বাস্তব জীবনে বহু নারী ও শিশুকে এখনও নিরাপত্তাহীনতা এবং অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হয়। এই বৈপরীত্যের দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এবারের থিম।

পুজোর ভাবনার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা বোঝাতে চাইছেন, নারীকে দেবীরূপে সম্মান জানানো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তাঁর নিরাপদে, স্বাধীনভাবে এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। সমাজে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা যেন শুধু উৎসবের কয়েকটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রতিদিনের আচরণেও তার প্রতিফলন ঘটে।

সচেতন সমাজ গড়ার আহ্বান

নারী ও শিশুর উপর অত্যাচার বন্ধ করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনও প্রয়োজন। এই বার্তাকে সামনে রেখেই বিবেকানন্দ সেবক সংঘের এবারের ভাবনা দর্শনার্থীদের নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে।

দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে শক্তির বন্দনা করা হয়। সেই শক্তির প্রকৃত সম্মান তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন প্রতিটি নারী ও শিশু ভয়মুক্ত পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারবে। ‘চইনা হোতে উমা’ থিমের মধ্য দিয়ে সেই মানবিক ও সামাজিক বার্তাই তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের বিবেকানন্দ সেবক সংঘ।