শারদোৎসব মানেই শুধু দেবী আরাধনা নয়, শিল্প ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজকে নতুন বার্তা দেওয়ারও এক বিশেষ উপলক্ষ। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে এবারের দুর্গাপুজোয় মহাভারতের কাহিনিকে কেন্দ্র করে বিশেষ আয়োজন করতে চলেছে বিশরপাড়া নবনগর অধিবাসীবৃন্দ। পুজোর ৫৪তম বর্ষে উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনায় উঠে এসেছে ধর্ম ও অধর্মের সংঘাত, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা।
এবারের মণ্ডপসজ্জায় দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন মহাভারতের যুদ্ধের নানা মুহূর্তের শিল্পসম্মত উপস্থাপনা। মহাকাব্যের পরিচিত ঘটনাগুলিকে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কেবল পৌরাণিক কাহিনি তুলে ধরা নয়, বর্তমান সমাজের নানা অসহিষ্ণুতা ও সংকীর্ণ মানসিকতার বিরুদ্ধেও বার্তা পৌঁছে দিতে চান পুজো উদ্যোক্তারা।
মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণের উপদেশে অর্জুন যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কর্তব্য পালনের পথে এগিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ভাবনাকেই এবারের পুজোর অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অধর্মের বিনাশের এই দর্শনকে দেবী দুর্গার আরাধনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাবনায়, অশুভ শক্তির বিনাশের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সহনশীলতা, বিবেক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও অত্যন্ত জরুরি।
মণ্ডপের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা নির্মাণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমার রূপের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে পুরো পরিবেশকে মহাভারতের আবহে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে দর্শনার্থীদের কাছে এই পুজো হয়ে উঠতে পারে পৌরাণিক কাহিনি, শিল্পভাবনা এবং সামাজিক বার্তার এক সম্মিলিত অভিজ্ঞতা।
বর্তমান সময়ে পারস্পরিক সহিষ্ণুতা, শান্তি ও সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিশরপাড়া নবনগর অধিবাসীবৃন্দের এবারের পুজোর ভাবনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। অসুরনাশিনী দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ প্রবণতা দূর করে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার আশাই প্রকাশ পেয়েছে এই থিমে।
সব মিলিয়ে, বিশরপাড়ার ৫৪তম বর্ষের দুর্গোৎসবে মহাভারতের যুদ্ধের দৃশ্যায়ন শুধুমাত্র মণ্ডপসজ্জার আকর্ষণ হয়ে থাকবে না, বরং ন্যায়, কর্তব্য ও শান্তির বার্তাও পৌঁছে দেবে দর্শনার্থীদের কাছে।
