West-Bengal News | দত্তপুকুরে সন্দেহভাজন গাড়ি থেকে রাসায়নিক উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থা

দত্তপুকুর, উত্তর ২৪ পরগনা: দশমীর রাতে বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল দত্তপুকুরের যশোর রোডে। রাস্তার পাশে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাদা রঙের গাড়িকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। পরে পুলিশ গাড়িটিতে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় একাধিক রাসায়নিক পদার্থ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরের পর থেকে যশোর রোডের ধারে গাড়িটি দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়িটির গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দত্তপুকুর থানার পুলিশ। গাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় রাসায়নিক পদার্থের সন্ধান মেলে বলে জানা যায়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বারাসাত জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাজির হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী, বম্ব স্কোয়াড এবং তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরাও। পরে তল্লাশি অভিযানে যুক্ত হয় এনআইএ। পাশাপাশি বেঙ্গল এসটিএফ ও এনএসজির সদস্যরাও উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পরীক্ষা করে দেখেন বলে সূত্রের খবর।

তল্লাশিতে হলুদ রঙের ছয়টি প্যাকেট এবং সাদা রঙের একটি প্যাকেট থেকে রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন কিছু উপাদান ছিল। এর মধ্যে স্পেন্টার ও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো পদার্থের কথাও সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকের প্রকৃতি ও ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সেগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় গাড়ির চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে গাড়ির মালিক রাকিবুল ইসলামকে বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া রাসায়নিক কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া পদার্থগুলির মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। সেই কারণে রাসায়নিকগুলির প্রকৃত পরিচয় ও বিপজ্জনক মাত্রা নির্ধারণে পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর এনআইএ ও এনএসজির আধিকারিকরা ঘটনাস্থল ছেড়ে ফিরে যান বলে সূত্রের খবর।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে দত্তপুকুর থানায় মামলা রুজু হয়েছে। গাড়িতে রাসায়নিক পদার্থ কীভাবে এল, কারা সেগুলি পরিবহণ করছিল এবং এর পিছনে অন্য কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ফরেন্সিক রিপোর্ট সামনে এলেই তদন্তে আরও স্পষ্ট ছবি উঠে আসতে পারে।

তদন্ত চলছে। উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকের প্রকৃতি ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্ত এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা রয়েছে।

Exit mobile version