বারাসাত: আলোর উৎসব দীপাবলি ও কালীপুজোকে ঘিরে সেজে উঠতে শুরু করেছে বারাসাত শহর। বিভিন্ন পুজো কমিটি নিজেদের বিশেষ ভাবনা ও সৃজনশীল মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই তালিকায় এবার বিশেষ চমক নিয়ে হাজির হচ্ছে বারাসাতের ঐতিহ্যবাহী কেএনসি রেজিমেন্ট ক্লাব। এবছর তাদের কালীপুজো ৬৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। আর এই বর্ষের মূল আকর্ষণ গুজরাটের স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আদলে তৈরি সুদৃশ্য মণ্ডপ।
মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক সৌন্দর্যকে মণ্ডপের প্রতিটি অংশে ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে জোরকদমে নির্মাণকাজ। বাঁশ, বাটাম, প্লাইউড ও ফাইবারের মতো বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপের কাঠামো। ধীরে ধীরে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় বাস্তব রূপ নিচ্ছে মন্দিরের আদলে এই বিশেষ ভাবনা। মণ্ডপের নকশা ও সাজসজ্জায় যাতে মূল স্থাপত্যের সৌন্দর্য যথাসম্ভব ফুটে ওঠে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
শুধু মণ্ডপসজ্জাই নয়, আলোকসজ্জাতেও থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। চন্দননগরের বিখ্যাত আলোর কারুকার্যে সেজে উঠবে গোটা পুজো প্রাঙ্গণ। রঙিন আলো ও বাহারি আলোকসজ্জার মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশকে আরও বর্ণময় করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। মণ্ডপের সৌন্দর্যের সঙ্গে আলোর এই মেলবন্ধন দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
এই বিশাল মণ্ডপ নির্মাণের কাজে যুক্ত রয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি শ্রমিক ও কারিগর। দিনরাত পরিশ্রম করে তাঁরা নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। মণ্ডপের কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে সূক্ষ্ম কারুকার্য ও চূড়ান্ত সাজসজ্জা—প্রতিটি পর্যায়েই চলছে ব্যস্ততা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে পুজোর আগেই মণ্ডপকে সম্পূর্ণভাবে দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত করে তোলাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
কেএনসি রেজিমেন্ট ক্লাবের কালীপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও এলাকার মানুষের আবেগ। ৬৭ বছরের এই পথচলায় প্রতি বছরই নতুন ভাবনা নিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে নিজেদের উপস্থাপন করে এসেছে পুজো কমিটি। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গুজরাটের স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুনত্বের মেলবন্ধনে এবারের কালীপুজোকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রস্তুত বারাসাতের কেএনসি রেজিমেন্ট ক্লাব। মন্দিরের আদলে দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপ, চন্দননগরের আলোকসজ্জা এবং দীর্ঘ ৬৭ বছরের পুজোর ঐতিহ্য—এই তিন আকর্ষণকে ঘিরেই এখন দর্শনার্থীদের অপেক্ষা।
