সাহিত্যপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে পা রাখতে চলেছে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। এবারের বইমেলাকে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করে তুলতে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। বিশেষ করে প্রকাশকদের স্টল বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপর দেওয়া হচ্ছে বাড়তি গুরুত্ব।
বইমেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সল্টলেকের করুণাময়ী সংলগ্ন সেন্ট্রাল পার্কের মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন উপদেষ্টা কমিটির প্রতিনিধিরা। পরিদর্শনের পর গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানান, বিগত বছরগুলির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মেলার পরিচালনায় থাকা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হবে। প্রকাশকদের স্টল বরাদ্দের প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এবারের বইমেলার মূল ভাবনা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ভারতবর্ষকে। পাশাপাশি জাতীয় স্তোত্র বন্দেমাতরমের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ আয়োজন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক ‘রক্তকরবী’-র শতবর্ষ এবং মহানায়ক উত্তম কুমার ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে বিশেষ উপস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও এবারের বইমেলা নতুন মাত্রা পেতে পারে। আয়োজকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতালির পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি নতুন দেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশীয় প্রকাশনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পাঠকদের পরিচিত হওয়ার সুযোগও বাড়বে।
মাঠ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে, মেলার উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বক্সি-সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের এই বইমেলার। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এবারের আয়োজন কতটা সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও পাঠকবান্ধব হয়ে উঠতে পারে, এখন সেদিকেই নজর বইপ্রেমীদের।
