উপকূলবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করল প্রশাসন। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সুন্দরবনের নদীঘেরা জনপদগুলিতে চলছে মাইকিং করে প্রচার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল।
প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কায় উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি ও হাসনাবাদের মতো নদীমাতৃক এলাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক করতে দফায় দফায় প্রচার চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগের সময় নদীর পাড় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও তার প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় আবহাওয়ার অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।
মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ২৭ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগের ঘূর্ণিঝড়গুলির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হচ্ছে। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ নদীবেষ্টিত এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় এখন মূল লক্ষ্য বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
