নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত নিবাধুই এলাকায় এক সিভিক ভলান্টিয়ারের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম অনির্বাণ বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের বাড়ি থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই নোটে একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ থাকায় ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অনির্বাণের সঙ্গে এক মহিলা আইনজীবীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সেই সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকেই ওই আইনজীবী তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এর জেরে অনির্বাণ মানসিক চাপে ছিলেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
মৃতের মা কল্পনা বসুর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে দত্তপুকুর থানার পুলিশকর্মী ও কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁদের বাড়িতে আসেন। দরজা খোলার পর অনির্বাণের ঘরের দরজা খুলতে বলা হয়। ঘরের ভিতরে ঢুকতেই ছেলের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা।
উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার এবং এক মহিলা আইনজীবীর নাম রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি।
ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কল্পনা বসু। সুইসাইড নোটে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপেরও দাবি তুলেছে পরিবার।
এই মৃত্যুর নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং সুইসাইড নোটে থাকা নামগুলির সঙ্গে মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না—সেই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে।
