বারাসাতের মাছের আড়তকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। আড়তের কমিটি গঠন ও কর্তৃত্ব নিয়ে বিবাদ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, বেলচা, লাঠি এবং মালপত্র ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যবহৃত লোহার হুক নিয়ে মারামারি চলে। সংঘর্ষের সময় মাছ রাখার ক্যারেটও ছোড়াছুড়ি করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজা সাহানি ও মানস দাসের অনুগামীদের মধ্যে এই বিবাদকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মাছের আড়তের কমিটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই মূল বিরোধ বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
বিজেপি সূত্রে দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বারাসাতের এই মাছের আড়তের নিয়ন্ত্রণ তৃণমূলের হাত থেকে বিজেপির হাতে আসে। সেই সময় দলের তৎকালীন বারাসাত সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রাজীব পোদ্দারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মানস দাস আড়তের নতুন কমিটির সম্পাদক হন। পরবর্তী সময়ে দলের জেলা নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর থেকেই কমিটিকে ঘিরে মতবিরোধ বাড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ।
বুধবার নতুন করে কমিটিতে কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। ওই আলোচনাকে কেন্দ্র করেই প্রথমে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষের রূপ নেয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল মারামারি হয় এবং কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীসংঘর্ষ বলে মানতে নারাজ নেতৃত্বের একাংশ। তাঁদের দাবি, এটি মূলত আড়তদারদের নিজেদের মধ্যে বিবাদ। যদিও কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাজা সাহানির বিরুদ্ধে নতুন কমিটি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠলেও তিনি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানা গিয়েছে। ফলে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বারাসাত থানার পুলিশ। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত এবং কীভাবে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে।
বারাসাতের মাছের আড়তকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আড়তের কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিস্থিতি কতটা জটিল হয় এবং পুলিশি তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
