Chorbagan Incident | চোরবাগান কাণ্ডে ধৃত সঞ্জীব রাহা, ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ

কলকাতা: চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। ধৃত পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়েছে বলে খবর।

তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, পুজোর প্রথম দিন সন্ধ্যায় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় মাইকে মণ্ডপ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা জানিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণার জেরে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশের নজর

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সেই সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে মাইকে ঘোষণা করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছেন পুলিশ আধিকারিকেরা। বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সঞ্জীব রাহাকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রকাশিত সংবাদে জানা গিয়েছে।

কেন ওই ঘোষণা করা হয়েছিল, তার পিছনে কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ ছিল কি না এবং ঘটনার সময় মণ্ডপে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কেমন ছিল—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

তদন্তে আরও এক ব্যক্তির নাম

এই ঘটনায় কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া নামে আরও এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। শুক্রবার তাঁকে গিরিশ পার্ক এলাকা থেকে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তিকে ঘিরে পদক্ষেপের পর মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে নয়ে পৌঁছয়।

বিপর্যয়ের কারণ জানতে তদন্ত

চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনার পিছনে কী কারণ ছিল, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মণ্ডপের পরিকাঠামো, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটনার দায় এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে। আপাতত সিসিটিভি ফুটেজ, মাইকে করা ঘোষণা এবং বিপর্যয়ের আগে ও পরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনায় কীভাবে এমন বিপর্যয় ঘটল, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে এখন তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে কলকাতা।

Exit mobile version