Durga puja : পরিচারিকারাই পুজোর উদ্যোক্তা, বারাসাতের ক্ষুদিরাম পল্লীতে মহিলাদের উদ্যোগে পঞ্চম বর্ষের দুর্গোৎসব

শারদোৎসবের আবহে উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বারাসাতের ক্ষুদিরাম পল্লী। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু দেবী দুর্গার আরাধনায় নয়, বরং এর নেপথ্যে থাকা একদল পরিশ্রমী মহিলার স্বপ্ন, সাহস ও পারিবারিক ভালোবাসায়। এলাকার মৎস্যজীবী ওয়েলফেয়ার মহিলা কমিটির উদ্যোগে এবার আয়োজিত হতে চলেছে দুর্গাপুজোর পঞ্চম বর্ষ।

এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এলাকার সাধারণ কয়েকটি পরিবারের অসাধারণ এক উদ্যোগ। কমিটির অধিকাংশ মহিলাই বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান। অন্যদিকে, তাঁদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের প্রধান পেশা মাছ ধরার কাজ। প্রতিদিনের ব্যস্ততা, পরিশ্রম এবং সংসারের নানা দায়িত্ব সামলেও দুর্গাপুজোকে ঘিরে নিজেদের মতো করে আনন্দের পরিবেশ তৈরি করতে চান তাঁরা।

কয়েক বছর আগে পরিবারের ছোটদের মুখে হাসি ফোটানো এবং নিজেদের পাড়ায় মিলেমিশে উৎসব উদ্‌যাপনের ভাবনা থেকেই এই পুজোর সূচনা। সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ পাঁচ বছরে পা দিতে চলেছে। মহিলাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে এই পুজো এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

সারা বছর জীবিকার তাগিদে যাঁদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, পুজোর দিনগুলিতে তাঁরাই হয়ে ওঠেন উৎসবের অন্যতম প্রধান কারিগর। নিজেদের হাতে পুজোর আয়োজন করা থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে তাঁদের আন্তরিকতা।

পুজোর কয়েকটি দিন যেন দৈনন্দিন ব্যস্ততার বাইরে এক অন্যরকম পারিবারিক মিলনমেলা। একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, গল্প, হাসি-আড্ডা এবং উৎসবের আনন্দে সামিল হওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় সম্প্রীতির পরিবেশ। বিশেষ করে বাড়ির শিশুদের কাছে এই পুজো হয়ে ওঠে আনন্দের এক বিশেষ উপলক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দারাও মহিলাদের এই উদ্যোগকে উৎসাহ দিচ্ছেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, বড় আয়োজনের পাশাপাশি মানুষের আন্তরিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একসঙ্গে পথ চলার ইচ্ছাই উৎসবকে অর্থবহ করে তুলতে পারে।

বারাসাতের ক্ষুদিরাম পল্লীর এই দুর্গোৎসব তাই শুধুমাত্র একটি পুজো নয়, বরং পরিশ্রমী মহিলাদের আত্মবিশ্বাস, স্বপ্নপূরণ এবং সামাজিক ঐক্যের এক পরিচিত ছবি। সকলের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এবারের শারদোৎসবও আনন্দময় করে তোলাই উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য।

Exit mobile version