টানা ৭ দিন অনুপস্থিত থাকলে নোটিস, গাফিলতি বা ফৌজদারি মামলায় জড়ালে সাসপেনশন ও বরখাস্তের বিধান
কলকাতা: সিভিক ভলান্টিয়ারদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং আচরণ সম্পর্কে নতুন আদর্শ আচরণবিধি (এসওপি) প্রকাশ করল কলকাতা পুলিশ। কী কী কাজ করা যাবে এবং কোন ধরনের আচরণ বা কাজে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তা বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের মূল্যায়ন নিয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই আচরণবিধি অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, শৃঙ্খলাভঙ্গ, দুর্নীতি, চাঁদা আদায়, অবমাননাকর আচরণ কিংবা কোনও ফৌজদারি মামলায় নাম জড়ালে সংশ্লিষ্ট সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁকে সাসপেন্ড করা থেকে স্থায়ী ভাবে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ারও বিধান রাখা হয়েছে।
কাজে অনুপস্থিতির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার কাজে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা ইউনিট ইন-চার্জকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অনুমতি ছাড়া টানা সাত দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট সিভিক ভলান্টিয়ারকে প্রথমে নোটিস পাঠানো হবে। ওই নোটিস হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
প্রথম নোটিসের সাত দিন পরেও অনুপস্থিতির কারণ না জানালে বা জবাব সন্তোষজনক না হলে দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত নোটিস পাঠানো হবে। সেই নোটিসেরও জবাব না দিলে অথবা জবাব সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট সিভিক ভলান্টিয়ারকে স্থায়ী ভাবে ডিমোবিলাইজ করা যেতে পারে।
তবে আচরণবিধিতে কিছু মানবিক বিষয়ও বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার অসুস্থ থাকলে অথবা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে সেই বিষয়টি বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের উপর নিয়মিত নজরদারির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে তিন মাস অন্তর সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের রিপোর্ট ডেপুটি কমিশনার, হোমগার্ড অর্গানাইজেশনের কাছে জমা দিতে হবে। তাঁদের দায়িত্ব পালনের ধরন, কাজের মান এবং কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না—এই ধরনের বিষয় রিপোর্টে উল্লেখ করা হবে।
সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে কলকাতা পুলিশের এই নতুন আচরণবিধি প্রকাশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় গ্রেফতার হন এবং পরে সাজাপ্রাপ্ত হন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং অন্যান্য অভিযোগ সামনে এসেছে।
‘নো-এন্ট্রি’ চলাকালীন ট্রাক ঢোকানো এবং ব্যক্তিগত গাড়িকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগেও কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম সামনে এসেছিল। বিধাননগর ট্র্যাফিক গার্ডের এক সিভিক ভলান্টিয়ার, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক হোমগার্ড এবং হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল বলে জানা যায়।
চলতি মাসেই ঝাড়খণ্ডের এক ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় কলকাতার এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একের পর এক ঘটনায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা এবং তাঁদের উপর নজরদারি নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই নতুন এই আদর্শ আচরণবিধি প্রকাশ করল কলকাতা পুলিশ।
নতুন নিয়মে সিভিক ভলান্টিয়ারদের দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা এবং নিয়মিত নজরদারির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নিয়ম ভাঙলে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
