POLITICAL EXCHANGE | মধুপুর ধামসত্র পরিদর্শনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী

মধুপুর ধামসত্র পরিদর্শনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী, দুই রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে উন্নয়নের পরিকল্পনা

কোচবিহার: পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় বার বার চেষ্টা করেও এ রাজ্যে আসতে পারেননি বলে অভিযোগ করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। শনিবার কোচবিহারের মধুপুর ধামসত্র পরিদর্শনে এসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ ও অসম সরকারের যৌথ উদ্যোগে কোচবিহারের ঐতিহাসিক মধুপুর ধামসত্রের উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রকল্পের কাজ ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতেই শনিবার মধুপুরে যান হিমন্ত। সত্র চত্বর ঘুরে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।

সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে আসতে না পারার প্রসঙ্গ তোলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে একাধিক বার বাংলায় আসার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। মমতার কাছে আসার অনুমতি চাইলেও তাঁকে বার বার অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।

হিমন্ত বলেন, ‘‘গত পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গে আসার জন্য বার বার পরিকল্পনা করেছি। দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বার বার জিজ্ঞাসা করেছি, আমি কি আসতে পারি! দিদি সব সময়েই বলতেন, দু’দিন পরে এসো। পাঁচ দিন পরে এসো। সময়ই হল না।’’

মধুপুর ধামসত্রের উন্নয়নে অসম সরকার ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফেও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। দুই রাজ্যের সহযোগিতায় ঐতিহাসিক এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটিকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দুই মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ও মালতী রাভা রায় উপস্থিত ছিলেন। অসম সরকারের মন্ত্রী ও আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদলও তাঁর সঙ্গে ছিল। দুই রাজ্যের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে উপস্থিতির প্রসঙ্গে হিমন্ত বলেন, ‘‘আমরা সকলে একটি পরিবারের মতো।’’

মধুপুর ধামসত্র শ্রীমন্ত শংকরদেবের স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থান। অসম সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অসমের বটদ্রবা থানকে যেভাবে উন্নত পরিকাঠামোয় সাজানো হয়েছে, সেই আদলে মধুপুর ধামসত্রকেও গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে।

হিমন্তের সফর ঘিরে মধুপুর ধামসত্রের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুই রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা আরও বাড়ল। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।

Exit mobile version