দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শ্যামাপুজোর প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে জমি বিবাদ ও রাজনৈতিক সংঘাতের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড়ের পাঁচগাছিয়া এলাকা। প্রায় চার দশকের পুরনো ঐতিহ্যবাহী শ্যামাপুজোর প্যান্ডেল নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি কাইজার আহমেদ এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশের বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচগাছিয়া এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে শ্যামাপুজোর আয়োজন হয়ে আসছে। এবছরও নির্দিষ্ট জায়গায় পুজোর মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন উদ্যোক্তারা। কিন্তু সেই সময়ই প্যান্ডেল নির্মাণে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুজো কমিটির দাবি, কাইজার আহমেদের অনুগামীরা এসে কাজ বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এই ঘটনায় পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পুজো উদ্যোক্তা সুরজিৎ পালের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জমিটি মূলত সেচ দফতরের অধীনস্থ ছিল। তাঁদের দাবি, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে ওই জমির পাট্টা নিজের নামে করিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে কাইজার আহমেদের বিরুদ্ধে। জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে বলেও দাবি পুজো উদ্যোক্তাদের। তাঁদের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং আইএসএফের মদতে দীর্ঘদিনের পুজো বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কাইজার আহমেদ সরাসরি ক্যামেরার সামনে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। ফোনে তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট জমি তিনি অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে ওই জমির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি। পুজোয় বাধা দেওয়ার অভিযোগও কার্যত অস্বীকার করেছেন কাইজার।
জমির বর্তমান মালিক বলে দাবি করা রেখা মণ্ডলের বক্তব্য, তিনি অর্থের বিনিময়ে জমিটি কিনেছেন। তাই তাঁর অনুমতি ছাড়া সেখানে পুজোর আয়োজন করতে দিতে তিনি রাজি নন। এই জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি এবং ওই জায়গায় পুজো না করার জন্য আদালতের তরফে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
ফলে একদিকে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য বজায় রাখার দাবিতে সরব পুজো উদ্যোক্তারা, অন্যদিকে জমির মালিকানা ও আইনি অধিকারের প্রশ্ন তুলে পাল্টা অবস্থান নিয়েছেন জমির বর্তমান মালিক বলে দাবি করা রেখা মণ্ডল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙড়ের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। পুজো কমিটির অভিযোগ এবং জমির মালিকের পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত জমির মালিকানা ও আদালতের নির্দেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ।
তবে ৪০ বছরের পুরনো এই শ্যামাপুজো শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েই এখন উদ্বেগে রয়েছেন পুজো উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
